এখন মার্ক্সিজম নিয়ে আমরা কথা বলাটা শুরু করি। মার্ক্সিজম নিয়ে কথা বলা শুরু করি। মার্ক্সিজম, সোশ্যালিজম, আমরা যে মিনস অফ প্রোডাকশন—মার্কস বিশ্বাস করতো যে ফিলোসফিক্যাল যেকোনো কিছু, মানে তোমার জাস্টিস বলো, স্টেট বলো, স্টেট অফ ইকুয়ালিটি, যেটাই বলো না কেন, কোনো কিছুর আলোচনা করতে হলে বা ভালো করে বুঝতে হলে তার দিনের দুনিয়ায়, মানে ১৯ সেঞ্চুরিতে, মিনস অফ প্রোডাকশনটা আগে ভালো করে বুঝতে হবে।
মার্কস যে ইকোনমিক, তা না; বা মার্ক যে এইটা নিয়ে শুধু চিন্তিত, সেটা না। কিন্তু মার্কসের বিশ্বাসটা ছিল যে অন্য যেকোনো কিছু বুঝতে হলে আগে এইটা বুঝতে হবে—প্রোডাকশন বুঝতে হবে। কারণ এর আগে যখন ল্যান্ডেড জেন্ট্রি ছিল, যখন ওয়েলথ জমিতে আবদ্ধ ছিল, ইন্ডাস্ট্রিয়াল রেভলিউশনের আগে, তো ওয়েলথ ছিল জমিতে আবদ্ধ, ঠিক না? তাহলে বড় ধনী কারা? যাদের কমান্ডে জমি আছে। প্রোটেরিয়েট কারা? যাদের নিজের জমি নেই, অন্য কারো জমির উপরে কাজ করছে, মানে তার নিজের লেবারটা শুধু ওই জায়গাতে দিতে পারছে। ঠিক আছে, এইটা ইন্ডাস্ট্রিয়াল রেভলিউশনে কি হলো? অনেকটা তো বদলালো। ইন্ডাস্ট্রিয়াল রেভলিউশনে আর ওই যে তুমি একজন কৃষক, তোমার অনেক একর জমি বা অনেক একর জমিতে তুমি কাজ করছো, ওই ফ্রিডমটা নেই। কয়েকশো, কয়েক হাজার, কয়েক লাখে একটা ফ্যাক্টরি বিল্ডিং-এর ভিতরে দিন-রাত একই রোড টাস্কে কাজ করে যাচ্ছে। রিমেম্বার, আমরা এর আগে অ্যাডাম স্মিথের যে কথাটা বলেছিলাম—ডিভিশন অফ লেবার। ডিভিশন অফ লেবার কি করে?
লট অফ পিপল, ইনক্লুডিং লট অফ পিপল, এঞ্জেলস, মানে কমিউনিস্ট ম্যানিফেস্টো। তোমার যে ডিগনিটি, ওয়ার্কার একটা প্রাইড, একটা ডিগনিটি যে আমি ভ্যালু ক্রিয়েট করছি। একজন কৃষক যখন ধান চাষ করছেন, তার কাজের একটা ডিগনিটি আছে। আমি ভ্যালু ক্রিয়েট করছি, আমি কষ্ট করে এই যে ধানটা বুনলাম, এই ধানটা যে আমি উঠালাম, এটা কেউ খেতে পারছে। ডিরেক্ট কারো টেবিলে যাচ্ছে। আমার ধান কারো টেবিলে যাচ্ছে। তুমি যখন একটা ফ্যাক্টরি ওয়ার্কার, ডিভিশন অফ লেবার তোমার রেসপন্সিবিলিটি এত নিচে নামিয়ে দিয়েছে যে তুমি হয়তো একটা কনভেয়ার বেল্টে শুধু দুটো হাতুড়ির বাড়ি দিচ্ছ, বা কিছু একটা মোচর দিয়ে দিচ্ছ। তোমার এন্ড অফ দা ডে তোমার কাজের কোনো ডিগনিটি নেই।
সাপোজ, তুমি একটা পুতুলের ফ্যাক্টরিতে কাজ করো, ওই পুতুলটা এরপরের সামনে যেয়ে একসময় যে বাজারে যাচ্ছে, বাজারে যেয়ে কারো বাড়িতে যাচ্ছে, কোনো একটা বাচ্চাকে অনেক আনন্দ দিচ্ছে ওই পুতুলটা নিয়ে খেলে। তুমি এজ ওয়ার্কার, এই পুতুলটা প্রডিউস করো নাই। তুমি ওয়ার্কার, এই পুতুলটা প্রডিউস করো, কোনো একটা স্ক্রু তুমি ঘুরিয়েছো। হোল অফ প্রোডাকশন ওই যে ডিগনিটি অফ লেবার, সেটা তোমার আর নাই। একজন কৃষক যতই খাটুক, তার একটা ডিগনিটি অফ লেবার ছিল যে আজকে আনোয়ারের যখন প্লেটে ভাত নিয়ে বসেছে, আমি কাজ করেছি এই ভাতটার জন্য। নাহলে চালটা হতো না। ইন দা ফ্যাক্টরি তোমার এই ডিগনিটি অফ লেবার নেই এবং এটা আরো হাজারো লক্ষ মানুষের ভেতরে ছড়িয়ে যাচ্ছে। এটা একটা জিনিস মিসিং।